সাংবাদিকদের সঙ্গীকথন

এটিএন নিউজের নিউজ অ্যান্ড কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের এডিটর প্রভাষ আমিনের স্ত্রী মুক্তি শিকদার বলেন, স্বামীর পেশা সাংবাদিক হলে তার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারলে সমস্যা হয় না। বিয়ের পর যখন রাত জেগে অপেক্ষা করতাম কখন বাসায় ফিরবে তখন আমার ননদ জেসমিন আমাকে রাগানোর জন্য বলতো, ‘সে যে ক্যানো আসে না আর ভালো লাগে না…।’ আমার রাত জাগা দেখে জেসমিন বিরক্ত হয়ে প্রায়ই বলতো ‘আমাকে কোনো সাংবাদিকের কাছে বিয়ে দিও না।
সাংবাদিক পেশার খারাপ দিক যেমন আছে তেমনি ভালো দিক আছে, সময় পেলে ঢাকার বাইরে কোথাও ঘুরতে গেলে সেখানকার প্রতিনিধিরা সব কিছু আগে থেকে ব্যবস্থা করে রাখে। স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের আনন্দটা ভাগাভাগি করে নিতে পারি।
উৎসবের আগের রাতে হয়তো আমি ঘর গুছানো কিংবা রান্না নিয়ে ব্যস্ত, সে দেখা যায় বেকিং নিউজ কি যাচ্ছে, নিউজ রুমে কোনো সমস্যা আছে কিনা তা নিয়ে ব্যস্ত। বাসায় থাকলেও মন থাকে নিউজরুমে। যখন কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা ম্যাসিভ দুর্ঘটনা হয় তখন স্থানীয় প্রতিনিধি ছাড়াও নিউজ কভার করতে রির্পোর্টার ও ক্যামেরাম্যানকে পাঠাতে হয়। তখন মনে হয় আমার স্বামীতো তাও বাসায় আছে আর যে প্রতিনিধি স্পটে যাচ্ছে তার পরিবারতো আমার চাইতে কষ্টে আছে। সব কিছুর পরও আমি বলবো সাংবাদিকেরা সাদা মনের মানুষ। তারা ভালো-মন্দ সব বিষয় বুঝতে পারে। সাংবাদিকরা পরিবারকে সময় দেয়ার চেষ্টা করে কিন্তু সময় দিতে পারে না।

সাবিকুন নাহার সুমি একজন গৃহিনী। তার স্বামী আকবর হোসেন একজন রিপোর্টার। স্বামী পেশা সাংবাদিক হওয়ার কারণে সুমির অভিযোগের যেন শেষ নেই। বাংলামেইলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ওতো সারাক্ষণ নিউজের জন্য বাইরে থাকে। কাজ শেষে অনেক রাতে বাসায় এসেও নিউজ করে। বিশেষ দিনগুলোতে আমাকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যেতে পারে না, বাসায় এসেও আমাকে একটু সময় দেয় না। এছাড়া তিনি আরো বলেন, কোনো রিস্ক অ্যাসাইনমেন্টে গেলে বাসায় যতক্ষণ না ফিরে ততক্ষণ অজানা আশঙ্কায় থাকি।
আলাপ কালে জানতে চাইলাম অনেক রাতে বাসায় ফিরে তখন মনে হয় না কোনো মেয়ের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আসছে কিনা? বলতেই হা হা হা করে সুমী হেসে বলেন, আকবরের প্রতি আমার শতভাগ বিশ্বাস আছে, কিন্তু আমাদের কোনো আত্মীয়-স্বজন সাংবাদিকতা পেশায় নেই। আকবরের রাতে ফেরা নিয়ে মাঝে মাঝে আমার বাবার বাড়ির অনেকেই যখন প্রশ্ন তোলেন তখন মাঝে মাঝে সন্দেহ হলেও খানিকটা পর ঠিক হয়ে যায়।
